ঢাকা | বঙ্গাব্দ
.

এ দেশের তরুণরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না: জামায়াত আমির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 26, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
আব্দুল্লাহ আল বিন  জুবায়ের
  জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া। 

 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় আনতে হলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে। তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমরা চাঁদাবাজদের বুক থেকে দূরে ঠেলে দেব না, বরং তাদের বুকে টেনে নিয়ে অন্য কোনো ভালো কাজে যুক্ত করব।’

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা দলগুলো আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে আমির ডা. শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্য কমাতে তিনটি কার্যকরী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন—যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করা এবং চাঁদাবাজদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।

বক্তব্যের শুরুতেই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চব্বিশের এই দুর্গ প্রমাণ করে দিয়েছে এ দেশের তরুণরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না। শাসকরা ফাহাদ ও হাদিদের বিদায় করেছে, কিন্তু তাদের রক্তে আজ হাজারো বিপ্লবী তৈরি হয়েছে।’

এ সময় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর কথা স্মরণ করে এবং জুলাই বিপ্লবের আহত ও গুম হওয়া পরিবারের কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সম্প্রতি নারীদের হেনস্তার কিছু ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা নারীদের গায়ে হাত তুলছে, তাদের মনে রাখা উচিত তারা নিজেরাও মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছে। তাদের সম্মান করতে শিখুন।’

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতিতে জামায়াত নেতাকর্মীরা মন্দির ও জানমালের পাহারা দিয়েছে এবং অতীতে নির্যাতিত হওয়ার পরও কোনো প্রতিশোধ নেয়নি।’

কুষ্টিয়ার চালের মিল ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধ খাজনা আদায়ের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘চালের ট্রাকে প্রতি হান্ড্রেডে (শ) খাজনা এবং ট্রাকপ্রতি ৫ হাজার টাকা নেওয়ার খবর আমরা জানি। বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখলের খেলা চলছে। যারা এসব করছেন, ফিরে আসুন। মানুষ আপনাদের ঘৃণা করে এবং অভিশাপ দেয়।’

নদী শাসনের নামে অর্থ লুটপাটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নদী এখন নাব্যতাহীন, খননের নামে কেবল পয়সা লুট হয়। অথচ এই অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণ হলো নদী। নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং পণ্যের দাম কমবে।’ জামায়াত নিজেদের স্বার্থে বা নেতাকর্মীদের পেট ভরার জন্য রাজনীতি করে না উল্লেখ করে তিনি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতি থেকে ভিখারি পর্যন্ত সবার জন্য একই বিচার হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতি এবং ভিখারির জন্য একই বিচার হবে। কারও প্রতি অবিচার করা হবে না।’

জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিবগা, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের জামায়াত ইসলামের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে মোঃ আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মুফতি আমির হামজা ও কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মোঃ আফজাল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন। 

এরআগে তিনি হেলিকপ্টারযোগে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স মাঠে নামেন। এরপর দুপুর বারোটার দিকে মঞ্চে উঠে প্রধান অতিথির ভাষন দেন। প্রায় আধাঘন্টার বেশি সময় ধরে বক্তব্য দেন তিনি। 

সকাল থেকেই জেলার চারটি সংসদীয় আসন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে জনসভাস্থলে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : NEWS Editor

কমেন্ট বক্স