ঢাকা | বঙ্গাব্দ
.

মনিরামপুরে শিশুদের খেলা নিয়ে সহিংসতা: চাপাতি হাতে হামলা ও ভিডিও করায় চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 14, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728


বিশষ প্রতিনিধিঃ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের করেরাইল গ্রামে শিশুদের সামান্য খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এক সহিংস ঘটনা পরবর্তীতে চাপাতি হাতে প্রকাশ্য তাণ্ডব এবং একের পর এক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার জন্ম দিয়েছে। এতে পুরো এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে করেরাইল গ্রামের ফারিয়া (পিতা—রবিউল ইসলাম) ও ইয়াছিন (পিতা—কলিম) পুকুরে ফুটবল খেলছিল। খেলার সময় অসাবধানতাবশত একটি ঢিল ফারিয়ার মাথায় আঘাত করলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা এটিকে শিশুদের খেলার দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য করে মীমাংসা করে দেন।
তবে ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফারিয়ার দাদি রমনি তাকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াছিনদের বাড়িতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে বোঝানোর পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি শান্ত হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানেই ঘটনার শেষ হয়নি। ফারিয়ার পিতা রবিউল ইসলাম খবর শুনে উত্তেজিত হয়ে মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি হাতে নিয়ে দৌড়ে ইয়াছিনদের বাড়িতে যান এবং প্রকাশ্যে ইয়াছিনকে খুঁজতে শুরু করেন। এতে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম তার মোবাইল ফোনে তাণ্ডবের ভিডিও ধারণ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউল ইসলাম ভিডিও বন্ধ করতে শহিদুল ইসলামের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তিনি শহিদুল ইসলামের ওপর সরাসরি হামলা চালান। এতে শহিদুল ইসলামের মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পর ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এসে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মীমাংসার পরেও রবিউল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা শহিদুল ইসলামকে ভিডিও ডিলিট করার জন্য বারবার হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রবিউলের পিতা মোহাম্মদ আলী নিয়মিতভাবে মামলা ও হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনার ২২ দিন পর ভিডিও ধারণের অভিযোগ তুলে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং—CR 1115/25)। পরবর্তীতে আবারও একটি নতুন মামলা (মামলা নং—৯১৩/২৫) দায়ের করা হয়েছে।
একাধিক মামলার ঘটনায় করেরাইল গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত। তিনি গরিব ও অসহায় মানুষকে ভয় দেখিয়ে ও প্রভাবশালী আইনজীবীর নাম ভাঙিয়ে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা করে আসছেন।
এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, প্রকৃত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : NEWS Editor

কমেন্ট বক্স